করোনার করালগ্রাস থেকে রক্ষা পেয়ে মানবিক মূল্যবোধের উদয় ঘটলে সত্যিই সেদিন পৃথিবী শান্ত হবে

ইতিহাসের রথচক্র দুর্বার গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেটে গিয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন, প্রবল জনস্ফিতি আর প্রতিটি রাষ্ট্রের বিশ্ব মাঝে সেরা হয়ে ওঠার লড়াইয়ে সবাই লিপ্ত। প্রতিটি দেশের রাজনীতি অর্থনীতি সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মাঝে রাজনীতির সেরা নেতা হয়ে ওঠার কঠোর সংগ্রাম। সমাজের কাজের আড়ালে নিজের আকাঙ্খা পুরণে ব্যস্ত মানুষ। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, দাঙ্গা,খুন, ধর্ষণ রাহাজানির চরম থেকে চরম আকার ধারণ করা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে একশ্রেণীর মানুষ যখন মানব সভ্যতার অবক্ষয় কে তরান্বিত করতে ব্যস্ত, ঠিক এই ফাকে সুন্দর ধরা কখন যে মলিন হতে শুরু করেছে সবার অলক্ষ্যে তা’ কেউই টের পায়নি।

আজ বিশ্ব জুড়ে আতঙ্কের কালো মেঘ ডানা মেলেছে। ‘কোভিড-১৯’ বা করোনা ভাইরাসের মত মারনরোগ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। মানুষের চোখে মুখে অন্ধকারের ছাপ। বেঁচে থাকার করুন আর্তনাদ মানুষের মনের মণিকোঠায় ঠোকা দিচ্ছে।

কোন দেশ এই ভাইরাসের সৃষ্টিকর্তা, নাকি এই ভাইরাস পরিবেশ সৃষ্ট আমার অজানা। তবে লকডাউনের এই মূহুর্তে গৃহবন্দী হয়ে একটা কথা পরিস্কারভাবে অনুভব করছি- মানবজাতি আজ পাপে পরিপূর্ণ। আর এটাই পৃথিবী আজ সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। নিজ ভারসাম্য বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নতুন পৃথিবী তৈরি করার আনন্দেই হয়তো বা মানবজাতির সঙ্গে এই নিঠুর খেলার আয়োজন।

আজ করোনা ভীতিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মানুষ গৃহবন্দী। আন্তর্জাতিক থেকে অন্তর্দেশীয় প্রতি ক্ষেত্রে সবাই এক সাথে কাজ করতে মরিয়া। আজ পৃথিবীর বুকে নেই কোন দাঙ্গা হাঙ্গামা। নেই ধর্ষণ, রাহাজানি। রাজপথে ব্যস্ততার ছাপ উধাও। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকারীদের দেখা মেলে না। ফৌজদারী দেওয়ানী মামলার জন্য মানুষের দেখা নেই। রাস্তাঘাটে দূর্ঘটনায় জখম নেই। মানুষের অসুখ কমে গেছে। মর্গে মৃতদেহ কমে গেছে।

আজ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার তাগিদে মানুষ খেয়ে না খেয়ে গৃহবন্দী হয়েছে, কিন্তু কাল আবার নতুন সূর্য উদিত হবে। সময় কারও জন্য থেমে থাকেনা। এই বন্দীদশা থেকে আমরা সবাই একদিন ঠিক বেরিয়ে আসব। পৃথিবী সেদিন প্রাণ ভোরে নিশ্বাস নেবে,আবার নবরূপে সজ্জিত হবে নতুন পৃথিবী।

কিন্তু এত কিছু শিক্ষা পাওয়ার পরেও আমরা কি পুরোনো দিনের অভ্যাসকে সাথী করে নেবো? মানুষে মানুষে আবারো কি রক্ত পিপাসু জন্তুর ন্যায় আচরণ করব! আবারও কি রাম রহিমের ধর্মের কাদা ছোড়াছুড়ির দৃশ্য ফেসবুকের হোম পেজে পোস্ট হতে দেখব! মানবিক মূল্যবোধের জন্ম হবে তো! প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে।

লেখকঃ এম.ডি লাল মোহাম্মদ (বিকি রোজ), শিক্ষক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

One Thought to “করোনার করালগ্রাস থেকে রক্ষা পেয়ে মানবিক মূল্যবোধের উদয় ঘটলে সত্যিই সেদিন পৃথিবী শান্ত হবে”

  1. Mir Masudur Rahman

    লাল দা কে ধন্যবাদ….

Leave a Comment